Total Care BD

Best Caring Website of Bangladesh

পেটে মেদ জমার কারন ও দূর করার উপায়

শেয়ার করুন

পেটে মেদ জমা বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ।অতিরিক্ত মেদ বা চর্বি আপনাকে শুধু বিব্রতই করেনা, এটা আপনার জন্য ক্ষতিকর। পূর্ণ বয়স্ক পুরুষদের ক্ষেত্রে ৩৯.৫ ইঞ্চি ও পূর্ণ বয়স্ক মহিলাদের ক্ষেত্রে ৩৫.৫ ইঞ্চির বেশি পেটের সাইজ থাকলে হার্টের রোগ ও ডাইবেটিস হতে পারে। এছারাও আপনার বিশাল পেট (west line or abdominal girth ) অনেকের কাছে আপনাকে হাসির পাত্র করে তুলে। তাই আপনি এখন থেকেই নিচের পদ্ধতিতে আপনার মেদ কমানর চেষ্টা করুন। বয়স ৩০ পার হলেই আমাদের দেশের বেশীরভাগ মানুষকে এই সমস্যায় ভুগতে দেখা যায় । এবং তখন এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে আমরা যারপরনাই ব্যাস্ত হয়ে পড়ি । অনেকেই খাওয়া-দাওয়াই ছেড়ে দেন । কিন্তু আপনার মেদ কেন বাড়ছে তা যদি জানা থাকে এবং সেগুলো এড়িয়ে চললে অতি সহজেই আপনি ফিট থাকতে পাড়েন ।অনেকেই মনে করেন বেশি খাওয়ার ফলে পেটে মেদ জমে । শুধু বেশি খাবার খাওয়ার জন্যই কিন্তু পেটে মেদ জমে না। চলুন কি কারনে পেটে মেদ জমে ও মেদ দূর করার উপায় ।

১। অতিরিক্ত চিনি বা মিষ্টিজাতীয় খাবার  Fat-Thin-Women
চিনি বা মিষ্টিজাতীয় খাবার অতিরিক্ত খেলে সেগুলো পেটে মেদ হিসেবে জমা হয় ।পেটে মেদ জমার অন্যতম কারণ হচ্ছে চিনি বা মিষ্টিজাতীয় খাবার। যদি স্লিম পেট চান তাহলে চিনি ও মিষ্টিজাতীয় খাবার খাওয়া বাদ দিন। বাদ না দিতে পারলে এসব খাওয়া কমিয়ে দিন। যেমন সপ্তাহে ২/৩ বার।

২।নিষ্ক্রিয়তা
সুস্থ থাকার জন্য শারীরিক ব্যায়াম করার কোন বিকল্প নেই এটা অনেক আগে থেকেই প্রতিষ্ঠিত। সঠিক দেহের আকৃতি বহির্গত এবং অভ্যন্তরীণ উভয় ক্ষেত্রের জন্য শারীরিক ব্যায়াম অবশ্যই প্রয়োজন। তাই যখন আপনি নিয়মিত ভাবে শারীরিক ব্যায়াম শুরু করবেন তখন আস্তে আস্তে পেটের মেদও কমতে শুরু করবে তখন আর সেই পেটের মেদ লুকানোর জন্য ঢিলেঢালা পোশাক পরার প্রয়োজন হবে না।তাই পেটের মেদ কমাতে নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম করুন ।
৩।ইটিং ডিজঅর্ডার
অনেকেরই খাবার সম্পর্কীয় এই রোগটি রয়েছে যা আমরা অনেকেই জানি না। যদিও একে অনেকেই রোগ মনে করেন না। যখন মন খারাপ থাকে তখন অনেকেই ভাবেন যে বেশি করে খেয়ে সেটা ভালো করবেন। আসলে সেটি কোন সমাধান না। কারণ এই কাজটি কখনো মানসিক ভাবে আপনাকে সাহায্য করবেনা শুধু পেটের মেদ বাড়ানো ছাড়া। খাবার প্রতি এভাবে নেশাগ্রস্ত না হয়ে চেষ্টা করুন শারীরিক ব্যায়াম করতে। এটা বেশ উপকারে আসবে। চেষ্টা করুন ইয়োগা করতে এটি দুশ্চিন্তা দূর করতে সাহায্য করবে।

৪।ঘুমের অপর্যাপ্ততা
প্রতিটি প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের জন্য দৈনিক ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানো খুবই প্রয়োজন। তাই কম ঘুমিয়ে বেশিক্ষণ জেগে থাকলে তা কর্টিসল হরমোনের উৎপাদন বাড়ায় এবং বেশি মিষ্টি খাবার বা যেকোন খাবারের ইচ্ছাকেও বাড়ায়। তাই এটিও মেটের মেদ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।তাই পেটের মেদ কমাতে পর্যাপ্ত ঘুমান ।
৫।বিষণ্ণতা
আমাদের আধুনিক সমাজ জীবনে বিষণ্ণতায় ভোগার যথেষ্ট কারণ রয়েছে এবং আমাদের অনেকেরই অনেকটা সময় বিষণ্ণতায় কাটেও। এই বিষণ্ণতাও পেটের মেদের একটি কারণ। কারণ বিষণ্ণতায় ভুগলে তখন দেহে কর্টিসল নামক একপ্রকার হরমোন নিঃসৃত হয়। আর এই কর্টিসল হরমোন পেটের চারদিকে চর্বি জমাতে সাহায্য করে পেটের মেদ বৃদ্ধি করে।তাই পেটের মেদ কমাতে আজই বিষন্নতা ঝেড়ে ফেলুন ।

৬।কম প্রোটিনযুক্ত খাবার
প্রোটিন আমাদের দেহের রক্তের শর্করার ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য প্রয়োজন। এটি ইন্সুলিনের মাত্রা কমিয়ে বিপাক ক্রিয়াকে বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। আর বিপাকক্রিয়ার হার বৃদ্ধি পাওয়া মানেই দেহে চর্বি পরিমাণ কমায়। তাই যদি কম প্রোটিনযুক্ত খাবার খাওয়া হয় তাহলে পেটের মেদ বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
৭।সময়মত খাবার না খাওয়া
অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস শরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকর। যখন শরীর জানবে না ঠিক কখন পরবর্তী খাবার আসবে তখন শরীর দেহে চর্বি জমা করা শুরু করে। তাই পেটের মেদ কমাতে সঠিক সময় এবং সঠিক বিরতিতে খাবার গ্রহণ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর ফলে শরীরের শক্তির সরবরাহ নিশ্চিত থাকবে।
৮।অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস
প্যাকেট ও প্রক্রিয়াজাত করা খাবারগুলো দেহে আক্রমণাত্মক ভাবে ক্যালোরির পরিমাণ বাড়ায়। কারণ এসব খাবারগুলোতে চিনি ও ক্যালরির পরিমান খুব বেশি থাকে যা পেটের মেদ বৃদ্ধির জন্য দায়ী। তাই যে কোনো প্যাকেটজাত, টিনজাত ও প্রক্রিয়াজাত করা খাবার গুলোর প্যাকেটে উপাদানগুলোর নাম এবং পরিমানণ দেখলেই হয়তো সবারই সেটা বুঝতে পারবেন।তাই পেটের মেদ কমাতে এসব খাদ্য পরিহার করুন ।
৯। লো-ফ্যাটজাতীয় খাবার বেশি পরিমাণে খাওয়া
লো-ফ্যাটজাতীয় খাবার বেশি খেলে শরীরের আকার কন্ট্রোলে থাকবে ভেবে যদি সারাদিন এ জাতীয় খাবারই খেতে থাকেন তাহলেও কিন্তু পেটে মেদ জমবে। লো-ফ্যাটজাতীয় খাদ্যে ফ্যাটের পরিমাণ কমানোর জন্য সুগারের পরিমাণ অত্যন্ত বেশি থাকে, যা মেদ জমাতে ওস্তাদ। তাই সাবধান লো-ফ্যাটজাতীয় খাবার থেকেও দূরে থাকতে হবে।

১০। বংশগত কারনে
পেটের মেদ অনেক সময় বংশগত কারণেও হতে পারে। যদি বাবা মায়ের কারো পেট মেদ বহুল থাকে তাহলে ছেলে মেয়েদের মাঝেও পেটের মেদ হওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়। তাই সেসব ক্ষেত্রে খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাপনের ধারায় অবশ্যই একটু অতিরিক্ত মনোযোগী হতে হবে।


শেয়ার করুন
Total Care BD © 2016