Total Care BD

Best Caring Website of Bangladesh

নারীর লাবণ্য ধরে রাখার সেরা খাবার

শেয়ার করুন

নারীর লাবণ্য ধরে রাখার সেরা খাবার নিয়েই আমাদের আজকের আয়োজন। এই পোষ্টে আপনি পাবেন নারীর লাবন্য ধরে রাখার উপায় এবং বিভিন্ন টিপস। লাবন্য ধরে রাখতে খাবারের বিকল্প নেই। কিন্তু তার আগে আপনাকে জানতে হবে কোন কোন খাবার আপনার লাবন্য ধরে রাখতে পারে।  সময় কে বেঁধে রাখার কোন ম্যাজিক কিন্তু নেই।সঠিক জীবন যাপনই আপনাকে সাহায্য করবে নিজেকে আরও বেশি দিন তরুন আর লাবণ্যময় থাকতে।কাজের চাপ, খাবার দাবারে অসচেতনতা আর নিজের প্রতি যত্নের অভাবে অল্প বয়সেই বুড়িয়ে যান অধিকাংশ নারী। ত্বকের সৌন্দর্য, দেহের গড়ন সবই নষ্ট হতে বসে অকালে। প্রজননগত কারণে নারীর শরীরে বাড়তি কিছু সমস্যা প্রায়ই দেখা যায়।

তাই অল্পদিনেই বয়সের ছাপ পড়ে আরও অনেক বেশি। এসব এড়িয়ে দীর্ঘদিন সৌন্দর্য ধরে রাখতে চাই প্রয়োজনীয় পুষ্টির সুষম যোগান। কিছু কিছু খাবার রয়েছে যা নারীর তারুণ্য ধরে রাখার জন্য খুবই উপকারী। জেনে নেয়া যাক নারীর লাবণ্য ধরে রাখার সেরা খাবার সম্পর্কে।

লাবণ্য ধরে রাখার সেরা খাবার

শাক-সবজি

বেশি করে শাক-সবজি খাওয়া দেহের জন্য খুবই ভালো। এর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের শাক, শিম, ব্রোকলি, লেটুস পাতা, বাঁধাকপি-এসব থাকতে পারে খাদ্য তালিকায়।

উচ্চ পরিমাণ আঁশ, ভিটামিন সি, ভিটামিন কে এবং ফলিক এসিডের উৎস। রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ চার মিনারেল- ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন ও পটাশিয়াম। চেষ্টা করতে হবে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় যেন এই খাবারগুলো থাকে।

গম

গমে রয়েছে ৯৬ শতাংশ আঁশ, প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও ভিটামিন। বিশেষজ্ঞরা বলেন, গমের রুটি, গমের পাস্তার মধ্যে উচ্চমাত্রার পুষ্টি রয়েছে। খাদ্যতালিকায় তাই এই খাবার রাখতে পারেন। নারীর দেহের পুষ্টির চাহিদা পূরণ করতে এ ধরনের খাবার খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

বাদাম

বাদামকে খাবারের তালিকায় অবশ্যই রাখতে হবে। এটি প্রোটিন, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন ই এবং ভিটামিন বি-এর ভালো উৎস, যা হৃদরোগ ও ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে।

এর মধ্যে রয়েছে উচ্চমাত্রার ক্যালরি, তবে এর চর্বি হৃৎপিণ্ডের জন্য ভালো। বিকেলের নাশতা হিসেবেও বাদাম খাওয়া যেতে পারে। তবে বেশি খাবেন না। সপ্তাহে ১৫ থেকে ২০টি কাঠবাদাম, ওয়ালনাট বা চিনাবাদামই যথেষ্ট।

দই

ননিবিহীন দই ভিটামিন, প্রোটিন ও ক্যালসিয়ামের উন্নতমানের উৎস। এর মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্যকর ব্যাকটেরিয়া, যা রোগের সঙ্গে লড়াই করে। সপ্তাহে তিন থেকে চার কাপ খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। তবে নিশ্চিত হয়ে নিন যে দইটি খাচ্ছেন তার মধ্যে কোনো চিনি নেই।

বেরি-জাতীয় ফল

বেরি-জাতীয় ফল যেমন ব্লুবেরি, স্ট্রবেরি, জামে আছে উচ্চ পরিমাণে আঁশ আর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। এই অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট কেবলমাত্র বিভিন্ন রোগের ঝুঁকিকেই কমাবে না, স্মৃতিশক্তি বাড়াতেও কাজ করে। ত্বকের লাবণ্য ধরে রাখতে অ্যান্টি- অক্সিডেন্টের তুলনা হয় না।

গ্রীন টি

স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গ্রিন টিতে (সবুজ চা) এন্টিঅক্সিডেন্টের পাশাপাশি অন্যান্য পুষ্টিগুণও রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এ চা-কে স্টোর হাউস বলা যেতে পারে। নিয়মিত এ চা পান সূর্যের আলোর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে ত্বককে রক্ষা করে। যৌবন পেরিয়েও ত্বকের লাবণ্য ধরে রাখতে এ চা বেশ উপকারী। ত্বক ক্যানসার প্রতিরোধেও এটি কার্যকর। গ্রিন টি ত্বকের বলিরেখা দূর করে আরও মসৃণ করে তোলে।

অ্যাভোকাডো

অ্যাভোকাডোতে থাকা গ্লুটামাইন অ্যামিনো অ্যাসিড থাকার কারণে ত্বক পরিষ্কার করে দারুনভাবে। অ্যান্টি এজিং ফল হিসেবেও অ্যাভোকাডো সুপরিচিত। অ্যাভোকাডোর নির্যাস দিয়ে তৈরি মাস্ক, ক্লিনজার, স্ক্রাব চেহারায় উজ্জ্বলতা আনে। বিশেষ করে অ্যাভোকাডো অয়েল থেকে কন্ডিশনার, ময়েশ্চারাইজার, ক্লিনজার ও ফেসিয়াল অয়েলের মতো নানা ধরনের পণ্য ত্বকের যত্নে অনন্য ভূমিকা পালন করে।

ডার্ক চকলেট

ডার্ক চকলেটে এন্টি-অক্সিডেন্ট বেশি থাকে। তাই তারুণ্য ধরে রাখা ও ক্যান্সার রোধে সহায়ক। ডার্ক চকলেট আসলে ত্বকের লাবণ্যর জন্য অনেক ভাল। ডার্ক চকলেট এ ফ্ল্যাভোনয়েড নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে যা সূর্য থেকে নির্গত UV রশ্মির ক্ষতি থেকে ত্বককে কিছুটা সুরক্ষা প্রদান করেন।

গাজর

গাজর শুধু শরীরের জন্য ভাল তাই নয় এটি আমাদের জন্য অ্যান্টি এজিং উপাদান হিসেবেও কাজ করে। এতে যে বিটা ক্যারোটিন আছে তা আমাদের শরীরের ভেতরে গিয়ে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে আমাদের শরীরের ক্ষয়প্রাপ্ত কোষগুলোকে ঠিকঠাক করে। ভিটামিন এ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আপনার ত্বকের রোদে পোড়া ভাব দূর করবে। সেই সাথে ভিটামিন এ ত্বকের অযাচিত ভাঁজ পড়া, কালো দাগ, ব্রন, ত্বকের রঙের অসামঞ্জস্যতা ইত্যাদি দূর করে আপনাকে সুন্দর হয়ে উঠতে সাহায্য করবে।

কালো ও লাল সিমের বিচি বা কিডনি বিন:
তারুণ্য ধরে রাখার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ খাবার হচ্ছে কালো ও লাল সিমের বিচি বা কিডনি বিন। কারন এতে রয়েছে অনেক বেশি পরিমানে খাদ্য আঁশ, পটাসিয়াম এবং প্রোটিন। এসব পুষ্টি উপাদান হার্টকে ভালো রাখার পাশাপাশি শরীরে খুব ভালো পরিমানে পুষ্টি প্রদান করে। 

আপেল:
কথায় আছে দিনে একটি আপেল ডাক্তার থেকে দূরে রাখে এবং সেই সাথে বার্ধক্য থেকেও দূরে রাখে। আপেলে থাকা পলিফেনল ফ্রি র‍্যাডিকেলের বিরুদ্ধে কাজ করে যা কোষকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করা ও অকাল বার্ধক্যের জন্য দায়ী। এছাড়া আপেলে রয়েছে উচ্চ আঁশ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।

আলু বোখারা:
আলু বোখারার রয়েছে প্রাকৃতিক ল্যাক্সেটিভ ও বার্ধক্য বিরোধী গুনাগুন যা সারা বিশ্ব জুড়ে বয়স্ক মানুষের কাছে সমাদৃত। এছাড়া এই ফলটি উচ্চ মাত্রার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, খাদ্য আঁশ এবং ভিটামিন এ সমৃদ্ধ। তাজা বা শুকনো যেকোনো ভাবেই এটি খাওয়া হোক না কেন এই ফলটি তারুণ্য ধরে রাখার অন্যতম একটি খাবার।

লাল আঙ্গুর:
এই ফলটি শরীরকে স্বাস্থ্যবান রাখতে এবং তারুণ্য ধরে রাখতে চমৎকার কাজ করে।

সয়াবিন:
বেশির ভাগ সময়ই দেখা যায় এই সবজিটি অনেকে খায় না বা খেতে কেমন লাগবে ভেবে এড়িয়ে চলে কিন্তু প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ এই সবজিটিতে অন্যান্য ভিটামিন ও খনিজ পদার্থও রয়েছে। এই সবজিকে সুপার ফুড বলা যায় কারন অসুস্থতা এবং রোগের বিরুদ্ধে এর বেশ শক্তিশালী ভূমিকা রয়েছে। তাই এটি ত্বকের সুস্থতা এবং তারুন্যও বজায় রাখতে সাহায্য করে।

টমেটো:
আমরা সাধারণত জানি যে টমেটোতে থাকে লাইকোপিন যা হৃদরোগের সম্ভাবনাকে কমায়। এছাড়া সূর্যের আলোর পোড়া ভাব কমাতে টমেটোর জুড়ি নেই। লাইকোপিন ত্বকের পোড়া ভাব কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া এটি ত্বকের কোলাজেনের মাত্রা বাড়িয়ে ত্বককে করে তোলে মসৃণ এবং দাগমুক্ত। টমেটো তে রয়েছে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্টেও।

বার্লি ও শস্য জাতীয় খাবার:
এসব শষ্য জাতীয় খাবার খাদ্য আঁশের জন্য বিখ্যাত। এছাড়াও এতে থাকে ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ যার ফলে এরা ওজন বেড়ে যাওয়ার বিরুদ্ধে কাজ করে, হৃদরোগ এবং অন্যান্য বার্ধক্যজনিত রোগের বিরুদ্ধেও কাজ করে।

আশাকরি নারীর লাবণ্য ও তারুণ্য ধরে রাখার সেরা খাবারের পোস্ট টি আপনাদের অনেক উপকারে আসবে। আপনাদের নিত্য প্রয়োজনীয় সবদিকে খেয়াল রেখেই আমাদের এই সামান্য প্রয়াস যদি ভাল লাগে জানাবেন ও অন্যকেও শেয়ার করবেন। ভাল থাকুন আর আমাদের সাথেই থাকুন।

শেয়ার করুন
Updated: November 11, 2016 — 1:06 am
Total Care BD © 2016